স্পেন নামের দেয়ালটাও শেষমেষ টপকে গেল ইতালি। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে গড়ানো ম্যাচে লুইস এনরিকের দলকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেছে ইতালি। প্রথমবারের মতো কোনো মেজর টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে গেল স্প্যানিশরা।
ভাগ্যের পরিহাস কিংবা নিছক কাকতাল, কোনো কথাতেই যেন ব্যাখ্যা করা যায়না এই ঘটনা। দানিয়েল ওলমোর অ্যাসিস্ট থেকে আলভেরো মোরাতার গোলে ম্যাচের ৮০ মিনিটে সমতায় ফিরেছিল স্পেন, ঠিক সেই দুজনই টাব্রেকারে এসে করলেন মিস।
তাতেই সেমিফাইনাল থেকে বাজলো স্পেনের বিদায়ঘণ্টা, যেটা স্প্যানিশদের ইতিহাসেই কোনো বড় টুর্নামেন্টে এই প্রথম। এর আগে চার ইউরো আর এক বিশ্বকাপের সেমিতে উঠে ওরা জিতেছিল প্রতিবারই। অন্যদিকে ১৯৬৮ সালের পর আরো একবার ইউরো ট্রফি ঘরের তোলার শেষ ধাপে পৌঁছে গেল আজ্জুরিরা।
মঙ্গলবার (৬ জুলাই) ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের ম্যাচে স্পেন বস লুইস এনরিকের একাদশ দেখে ধাক্কা খেয়েছেন অনেকেই। যে মোরাতাকে নিয়ে এতো আলোচনা তাকে সেরা একাদশেই রাখা হয়নি। তবে ওই দল নিয়েই আসর জুড়ে ছড়ি ঘোরানো মানচিনির ইতালিকে ঠিকই চেপে ধরেছিল ওরা। ম্যাচের ৭০ শতাংশ সময় বলের দখল রেখেছিল স্পেন।
কিন্তু গোল না হলে এসবের আর দাম কই? সেই গোলের জন্য অপেক্ষা ঘণ্টাখানেকের। প্রথম লিডটা নিলো ইতালি। দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল বানালেন সিরো ইমোবিলে, ফিনিশিং টাচ ফেদেরিকো চিয়েসার।
গোল খাওয়ার পর এনরিকের ট্যাকটিক্সে পরিবর্তন, ৬২ মিনিটে ফেরান তোরেসের বদলি নামেন মোরাতা। ম্যাচের ৮০ মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান আতলেতিকো মাদ্রিদ অ্যাটাকার। এই ১-১ স্কোরলাইনেই শেষ হয় ১২০ মিনিটের প্লেইং টাইম।
টাইব্রেকারে ইতালির হয়ে প্রথম স্পট কিকটা মিস কোরলেন লোকাতেল্লি, তাতেই যে ওয়েম্বলিতে ফিরে ফিরে আসছিল ২০০৮ ইউরোর স্মৃতি। সেবার এই স্পেনের বিপক্ষেই কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছিল ইতালি।
তবে এবারে আর বিপদ হয়নি কোনো। জর্গিনহোর শটটা জালে পৌঁছানোর সাথে সাথেই ফাইনালে ওঠার উল্লাসে মাতে আজ্জুরিরা। এনিয়ে টানা ৩৩ ম্যাচ অপরাজিত ওরা। গেল ১৪ ম্যাচের সবকটায় জিতেছে মানচিনির দল। সবচেয়ে বেশি ৩৫ ম্যাচ আনবিটেন থাকার রেকর্ডটা অবশ্য এখনো যৌথভাবে স্পেন আর ব্রাজিলের দখলে।